কেমন হবে সেইদিন যেদিন আমি এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি দিবো না ফেরার দেশে। যে দেশে শুধু যাওয়া যায় কিন্তু কখনই ফিরে আসা যায় না। ফেসবুক এ হয়তো ফ্রেন্ড লিস্টের মানুষ গুলো আমাকে নিয়ে পোস্ট করবে, শোক প্রকাশ করবে। কেউ কেউ আমার আত্মার মাগফিরাতের কামনা করছে আর সেই পোস্ট এ অনেকেই কমেন্ট এর বন্যা বইয়ে দিচ্ছে, আমার মাগফিরাতের।
খুব কাছের মানুষগুলোর হয়তো বা একটু মন খারাপ হবে, হয়তো বা আমাকে হারানোর যন্ত্রণা তাদের চোখের কোনায় এক ফোটা অশ্রু এনে দিবে। অনেকে আমার জানাযায় আসবে শরিক হবে আর অনেকে দূরে থাকার দোহাই দিয়ে আর আশা হবে না, দাপন শেষে যে যার মত করেই ফিরে যাবে আপন নিড়ে।
আমার ফেমিলি হয়তো শোকে কাতর হয়ে থাকবে, ক্লাসমেট এবং জীবনে চলার পথে যে বন্ধু গুলো কে পেয়েছিলাম তারাও হয়তো বা আমায় হারানোর শোক প্রকাশ করবে। হয়তো বা দাপন শেষে ভূলে যাবে। কিন্তু খুব করে আমার জন্য দোয়া করার মানুষ গুলো পাওয়া যাবে না আর সেইদিন, সবাই শুধু হারানোর শোকই প্রকাশ করবে, কান্না করবে।
কিন্তু আমাকে কবরে রাখার পর আমার অবস্থা নিয়ে কারো ভাবার সময় টুকু আর সেইদিন হয়ে উঠবে না, জানতে চাইবে না আমি কেমন আছি শব্দহীন অন্ধকার গহীন কবরে। আমায় হারানোর শোক প্রকাশ করার মানুষের অভাব হবে না সেইদিন, কিন্তু আমায় নিয়ে ভাবার মানুষের খুব অভাব হবে।
হতে পারে সেদিনটি হবে আমার জীবনের সব চেয়ে ভয়ংকর এবং কষ্টের দিন, এইদিকে তারা আমাকে হারানোর শোক প্রকাশ কান্না নিয়ে পড়ে থাকবে, আর আমি নামক আস্ত একটা মানুষকে ঠিক সেই সময় চারিদিকের মাটি চার দিক থেকে চিবিয়ে নিচ্ছে, আমার এক পাশের হাড় গুলো আরেক পাশে এসে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে, আহ কি ভয়ানক, কি ভয়ংকর সেই সময়টা, দুনিয়ায় সামান্যতম কষ্ট আমি সইতে পারতাম না, আর সেই আমাকে কবরে রাখার সাথে সাথেই মাটির চাপের কষ্টে যন্ত্রণায় দুনিয়ার সব দুঃখ-কষ্ট চাওয়া-পাওয়া, প্রিয় মানুষ যাদের ছাড়া ভাবতাম আমি নিঃশ্বাসহীন, এসবের কিছুই আমার আর তখন মনে নেই। এ যেনো সারা দুনিয়ার মানুষের সমস্ত কষ্ট গুলো এক করলেও আমার এই কষ্টের সমান হবে না।
একটা সেকেন্ড না যেতেই আবার মুনকার-নাকিরের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় অন্ধকার গহীন কবরে আমাকে বেধড় পেটানো হচ্ছে৷ আমার চারিদিক সাপ আর সাপ ফিসফিস করছে। যে শরির কে আমি কখনো অযত্নে রাখতাম না, সারাক্ষণ বিভিন্ন সাজে যত্নে গুছিয়ে নিতাম সেই শরির কে বিচ্ছু, বড় বড় পিঁপড়েরা চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। জালিয়ে দেয়া হয়েছে আগুন, দুনিয়া থেকে অর্জন করা আমার সমস্ত পাপ আমার চোখের সামনে ভাসছে, মিথ্যা বলা, গিবত করা, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা, অপ্রাসঙ্গিক কথার দ্বারা অন্যের মনে কষ্ট দেওয়ার কারণে মুখ থিতলে দেওয়া হচ্ছে। পেরেক ঠুকে দেয়া হচ্ছে আমার চোখে অশ্লীল ভিডিও দেখা এবং নন-মাহরামের দিকে তাকানোর কারণে।
দুনিয়ায় রেখে যাওয়া হারাম সম্পর্কের মানুষটি, জাস্ট ফ্রেন্ড বলে যার সাথে সারাক্ষণ ফ্রি মিক্সিং, ফোন আলাপ, বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের দেয়া টেক্সট মেসেজ গুলোর কারণে আমার হাত,পা,মুখ,চোখ,কান,পুরো শরির কে উলঙ্গ করে আগুনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং কত বড় বিশাল বিশাল পাথর, হাতুড়ি দিয়ে আমাকে আঘাত করা হচ্ছে।
যে গানকে আমি আমার ডিপ্রেশন দূর করার ঔষধ ভাবতান সেই গান শোনার কারণে, এবং অন্যের গিবতের আলোচনায় শামিল হওয়ার কারণে আমার কানে ঢালা হচ্ছে গলিত সীসা। অন্যের সহিত জুলুম করার কারণে, অন্যের হক্ব নষ্ট করার কারণে এবং যে হাত দিয়ে বিভিন্ন হারাম কাজে ও গেমে সময় নষ্ট করেছি সেই পাপের জন্য আমার হাত-পা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হচ্ছে। দুনিয়া রেখে আসা আমার সমস্ত পাপের রাস্তা হারামের রাস্তা গুলোর জন্য যে কি যন্ত্রণা আমাকে দেয়া হচ্ছে সেটা প্রকাশ করার কোনো ভাষা হয়তো নেই।
এতো কিছু হয়ে যাচ্ছে আমার সাথে অথচ আমার আর মৃত্যুটা হচ্ছে না সেখানে। আমি চিৎকার করছি, প্রচন্ড চিৎকার। আমার চিৎকারে পুরো দুনিয়া কেপে উঠছে, কিন্তু কেউই শুনতে পাচ্ছে না। যত সময় যাচ্ছে ততই যেনো আমার এই যন্ত্রণা গুলোর পরিমান বেড়েই চলছে। আমার যন্ত্রণা গুলো আর শেয়ার করার মতো কাউকে খুজে পাচ্ছি না সেইদিন। কেউ আমার কবরের পাশে এসে একটু জানার সময় হচ্ছে না কি হচ্ছে আমার সাথে।
এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমার প্রতিদিন। প্রতিদিনের ন্যায় আমার শাস্তি যেনো বেড়েই চলছে, আচ্ছা দুনিয়াতে তো সামান্য কষ্ট সইতে না পারায় মরে যাওয়ার সুযোগ আছে, কিন্ত কবরের এতো ভয়ানক আজাব থেকে বাচার জন্য কি কোনো মরার সুযোগ নেই?
এই যে আমার এতো এতো যন্ত্রণা, চিৎকার গুলো কি কেউ কখনো জানবে……………..

