ডুবে আছি নেট দুনিয়ায়,ধ্বংস করে ফেলছি নিজের জীবনকে।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বয়সের ছেলেদের সাথে অনলাইন বা অফলাইনে তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা হয়।
তাদের সমস্যা গুলো শুনে মাঝেমাঝে খুব কষ্ট অনুভব করি।
যুগের সবচেয়ে কঠিন সময় আমরা পার করছি নিঃসন্দেহে। নেট দুনিয়ার যুগে আমরা আমাদের অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ করছি। আমাদের দৈনন্দিন সময়ের সিংহভাগ সময় নেট দুনিয়ায় ডুবে আছি।
এখানে ভালো যেমন আছে, আছে মন্দের ছড়াছড়িও।
নোংরামি বেহায়াপনা আছে। অশ্লীলতার মহামারি আছে।
পশ্চিমা পুঁজিবাদী সভ্যতার সবচেয়ে লাভবান বিজনেস পর্ন থেরাপি। কিভাবে কম বয়সে তরুণ তরুণীদের মাথায় যৌন বিকৃত সেটাপ করা যায় সে কাজটাই তারা করছে। বিনিময়ে পাচ্ছে অর্থ।
মদ খেয়ে মাতাল হলে সে মাতলামি সাময়িক। কিন্তু পর্ন থেরাপি যাদের অন্তরে পুশ করা যায় তারা দীর্ঘদিন মাতলামিতে আসক্ত থাকে।
সে দীর্ঘদিনের পরিমাণ কত তা বলে শেষ করার নয়।
মদ খেয়ে মাতাল হয়ে মানুষ যেমন দিগবিদক জ্ঞানশূন্য হয়,অশ্লীল ছবি নারী-পুরুষের অবৈধ যৌন সঙ্গমের ছবি ভিড়িও দেখেও যুবা ও কিশোররা তেমনি জ্ঞানশূন্য হয়।বরঞ্চ যেকোনো নেশা থেকে পর্ন থেরাপির প্রসুত মত্ততা অনেক ভয়ঙ্কর।
আমাদের মসজিদ গুলোতে এসবের আলোচনা ও ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা জরুরি।
আমাদের মাহফিল গুলোতে এসবের আলোচনা ও উত্তরণের পথ নিয়ে কথা বলা জরুরি।

আর আমাদের পিতামাতা, যারা ছেলেমেয়েকে খুশি রাখার জন্য আইফোন দিচ্ছেন, বেডরুমে একটা লেফটপ দিচ্ছেন,বাসায় আনলিমিটেড নেট কানেক্ট করে দিচ্ছেন,পড়াশুনা ভালো হওয়ার জন্য একটি আলাদা রুম দিচ্ছেন তাদের ভাবা উচিৎ আমার ছেলে কি মানুষ হচ্ছে না পশুত্বের কাতারে নিজের নাম লিখে নিচ্ছে চিন্তা করা দরকার।
নেট দুনিয়া ও আমার প্রতিবেশি বন্ধুবান্ধবদের স্বীকারোক্তি শুনে আমার মনে হলো এ কাজের সহায়ক আমাদের পিতামাতা।তারা তাদের জায়গা থেকে সচেতন না হওয়ায় সমাজে পাপাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যিনা বাড়ছে।নালা নরদমায় নবজাতক পাওয়া যাচ্ছে, নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, শিশুকিশোরেরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে,সমকামীতার মতো জঘন্য পাপকে স্বাভাবিক বলা হচ্ছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক হচ্ছে।
ইন্সেটের মতো জঘন্য পাপও আমাদের সমাজে হচ্ছে।
একশ্রেণী এসবের বৈধতাও চাচ্ছে।
ভাবতে অবাক লাগে কি এক জঘন্য দুনিয়ায় আমাদের বিচরণ হচ্ছে।
আআমাদের যুবক-যুবতী, কিশোরকিশোরীরা তাদের নৈতিক সত্তাকে সামান্য সুখে বিক্রি করে দিয়েছে পশ্চিমার হাতে।তারা তাদের আখিরাতের পুঁজি ঈমান আখলাক পর্যন্ত বিক্রি করতে কোণঠাসা করেনি।
কি এক জঘন্য সুখ পর্ন থেরাপির যুগে! ভাবা যায়?

আল্লাহ জানতেন এবং জানেন যে মানুষ অশ্লীলতার আশেপাশে গেলেও শয়তান তাদের বিপথগামী করবেই।
তাই তিনি বলেছেন
” তোমরা যিনার নিকটবর্তী হইও না।”
“তোমরা অশ্লীলতার ধারেকাছেও যেওনা।’

এ আয়াতের ব্যাখ্যাটা এভাবেই হতে পারে।
সকল অবস্থায় যৌন উদ্দীপক সকল বস্তু সকলের জন্য হারাম।
এখন কোনকোন বস্তু আপনার জন্য হারাম হতে পারে তা নির্ধারণ করে নেয়ার দায়িত্ব আপনার।
যদি আপনি পর্ন আসক্ত হয়ে থাকেন আপনার জন্য স্মাটফোন হারাম হতে পারে নির্দিষ্ট সময়ের গুলোতে।
বেশিরভাগ ছেলেরা পর্ন দেখে রাতে কম্বলের নিচে লুকিয়ে। তাই রাতের বেলায় আপনার ফোনটা সাথে রাখা আপনার জন্য হারাম।
কারো যদি পিসিতে পর্ন দেখার অভ্যাস থাকে তাহলে ল্যাপটপ তার বেডরুমে রাখা হারাম হতে পারে।

কেউ আলাদা রুমে থাকেন,বেশিরভাগ সময় আপনি টাইমপাস করেন নেট দুনিয়ায় পর্ন দেখেদেখে।তাহলে ভাই আপনার জন্য সাময়িকভাবেই আলাদা রুম পরিহার করা উচিৎ। এটা যেভাবেই হোক আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।আপনার জন্য আলাদা রুমে রাত যাপন করা হারাম।
অনেকেই আছে বাসায় আনলিমিটেড Wifi থাকায় পর্ন আসক্ত হচ্ছে। আপনার জন্য ঐ নেট কানেক্ট রাখাও হারাম হতে পারে।
শহরে আলাদা বাসা নিয়ে আপনি থাকেন।
এতে বিভিন্ন সময় আপনি অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছেন শয়তানের ধোঁকায় পড়ে।ঐ সময়ের জন্য আলাদা বাসা নিয়ে থাকাটাও হারাম।

শুধুমাত্র মাদ্রাসা নয় স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গুলোতেও নিয়মিত সমকামিতার মতো জঘন্য পাপ সংঘটিত হচ্ছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের হাতে অনার্সের শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের ঘটনাও শুনতে হয়েছে ভুক্তভোগীর মুখ থেকেই।
আপন বড় ভাইয়ের দ্বারা ছোটভাই একি বিছানায় যৌন নির্যাতনের চিত্র অনেকেই শুনিয়েছে।

এরকম অসংখ্য হারাম কাজে জড়ানো উদ্দীপক আমাদের সমাজে বিদ্যমান আছে।

যাদের সাথে এসব সমস্যা নিয়ে কথা হয় তারা বেশিরভাগই দেখেছি এ সমস্যা নিয়ে ডিপ্রেশনে থাকে।তারা ফিরে আসার আগ্রহ থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই।তারা তাদের নোংরামির উদ্দীপক গুলো ছাড়তে পারেনা।

করোনা মহামারিতে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে অতিতের সকল রেকর্ড ভেঙে তিন থেকে চার গুন আয় হয়েছে বলে বিবিসির একটি নিউজে দেখার সুযোগ হয়েছিল ২১ সালের শেষ দিকে।
চিন্তা করে দেখুন মৃত্যুদূত যখন আমাদের অতি নিকটে তখন আমাদের আখলাক ঈমান কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।

ভাই,প্রিয়ভাই আমার।এমন বেহায়াপনায় নিজেকে আর নিমজ্জিত রাখবেন না।
বাসা থেকে গুনাহ অশ্লীল কাজের উদ্দীপক গুলো আজকেই সরিয়ে ফেলুন। দয়া করে অজুহাত পেশ করবেন না।খারাপ কাজের অজুহাত শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।বাকি সময় গুলোতে আল্লাহর ভয় হৃদয়ে তালাবন্ধ করে রাখুন।
নিয়মিত একটি ঘন্টা আল্লাহর কালাম বুঝেশুঝে পড়ুন।যত খারাপ সময় পার করেন না কেনো জামায়াত মিস করবেন না।
খারাপ কিছু হয়ে গেলে অজু করে দুই রাকাত নফল আদায় করে তাওবা করুন গুনাহ যতবার হোক না কেনো।মাথায় কুচিন্তা আসলে সার্বক্ষণিক অজু অবস্থায় থাকুন।অজু করা মাত্রই দুই রাকাত নফল আদায় করার অভ্যাস করুন।
বেশিবেশি কবর জিয়ারত করুন।এতে আখিরাতের ভয় আসবে।
যদি আপনি আসক্ত হয়ে যান তাহলে নিয়মিত হাসপালের ইমার্জেন্সি গেইটে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকুন কিছু সময়।মন থেকে নোংরা চিন্তাভাবনা দুর হবে।

প্রিয়ভাই আমার, খারাপ অশ্লীলতায় নিমজ্জিত হয়ে আপনি আল্লাহকে ভুলে গেলেও আল্লাহ এখনো আপনাকে ভুলেনি।তিনি আশা করেন আপনি আবার তার দিকে প্রত্যাবর্তন করবেন অনুতপ্ত সহকারে তাওবার সাথে।

Published by Muhsin Ali

I am a student. I study in Univercity of dhaka. Political science.

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started