
পৃথিবীটা ভরে উঠছে হতাশাগ্রস্ত মানুষ দ্বারা। জীবনের সর্বপদে আমরা হতাশ। কেউ ভালাে চাকরির জন্য হতাশ, কেউ ক্যারিয়ার, পড়াশােনা আর ভালাে জীবন-জীবিকার জন্য। যদি জিজ্ঞেস করা হয়, দিনে কতবার আমি ভালাে চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করি? পরীক্ষায় ভালাে রেজাল্ট, ভালাে একটি ক্যারিয়ার, ভালাে জীবন-জীবিকার জন্যে দিনে কতবার আমি আল্লাহর কাছে হাত পাতি? এমন জরিপের ফলাফলও হবে হতাশাজনক। আমাদের জীবন থেকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে বড় যে সুন্নাহটা বিলুপ্ত সেটা হলাে দুআ। আমরা দুআ করতে ভুলে গেছি। অথচ নবি (সঃ) এর জীবনের দিকে তাকালে আমরা দেখব, তার পুরাে জীবনটাই ছিল আগাগােড়া দুআর সমষ্টি। তিনি ঘুম থেকে উঠে দুআ করেছেন। ওযু করার আগে দুআ করেছেন, ওযু শেষ করে দুআ করেছেন। তিনি নতুন জামা গায়ে দিতে গিয়ে দুআ করেছেন। জুতাে পরতে গিয়েও দুআ করেছেন। ঘর থেকে বের হবেন, দুআ করেছেন। ঘরে ঢুকবেন, দুআ করেছেন। আকাশে নতুন চাঁদ দেখে দুআ করেছেন, মােরগের ডাক শুনে দুআ করেছেন। তিনি সুসংবাদ শুনে দুআ করেছেন, দুঃসংবাদ শুনে দুআ করেছেন। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে, প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি কদমে তিনি দুআ করতেন। তার জীবনটাই ছিল একটা দুআর ভাণ্ডার। আর আমরা?
মনে পড়ে আমরা শেষ কবে দুআ করেছি। অন্তত নিজের জন্য?
কুরআনে বর্ণিত নবি-রাসুলদের জীবনের দিকে তাকালেও আমরা দেখি যে, তাদের জীবনেও দুআর ছিল এক আশ্চর্যরকম প্রভাব। ক্ষুদ্র থেকে বিশাল সবকিছুতে তারা আল্লাহর কাছে দুআ করতেন। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতেন। মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েও নবি আইয়ুব আলাইহিস সালাম আল্লাহর ওপর থেকে নিরাশ হননি। দুআ করা ছাড়েননি। মাছের পেটে বন্দি হওয়ার পরেও ইউনুস আলাইহিস সালাম ভুলে যাননি দুআ করার কথা। মুসা আলাইহিস সালামের মুখে ছিল জড়তা। সেই জড়তা দূর করার জন্যেও মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে দুআ করেছেন যা আমরা কুরআনে দেখতে পাই। জীবনের কঠিন-সহজ সকল সময়ে আল্লাহ নবি-রাসুলদের সঙ্গী ছিল দুআ। তারা তাদের জীবনের সমস্ত কিছুকে আল্লাহর দিকে সােপর্দ করে দিয়ে দুআ করতেন। দুআই ছিল তাদের প্রধান বর্ম, প্রধান হাতিয়ার।
আল্লাহ তায়া’লা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দোয়া করার তৌফিক দান কর।
