
উঠান জুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ, হাজার মানুষের ফাঁকে বাড়ির এক কোণে পড়ে থাকবে আমার নিথর দেহ। তাদের মাঝে কেউ কেউ চুপচাপ বসে থাকবে, আবার কেউ কেউ দুই নয়নের অশ্রু ফেলে অঝোর ধারায় কান্না করবে। আবার কেউ মুখটাকে মলিন করে বলবে-হায়! এই তো ক’দিন আগেও একসাথে ঘুরলাম, কথা বললাম। আবার কেউ কেউ বলবে-এই তো সেদিনও একসাথে বসে খানা খাইলাম। আজ সে পাশেই শুয়ে আছে, ডাকলেও সাড়া দিচ্ছে না। বড়ই পাতার গরম জল খুব যত্নসহকারে আমার সারা অঙ্গে ঢালবে। গোসলের পর যখন আমার গায়ে জড়িয়ে দেবে সাদা কাফন, আপনজনেরা এসে বলবে-লাশটাকে তাড়াতাড়ি দাফন করো। ঠিক তার আগে কেউ কেউ এসে বলবে-একটু দাঁড়াও ভাই, শেষবারের মতো একবার লাশের মুখটা দেখে যাই। তখন কেউ কেউ আমার মুখের দিক অপলক দৃষ্টিতে তাকাবে, আর চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলবে-আর হবে না দেখা, আর হবে না কথা। তারপর যখন কয়েকজন মিলে আমার লাশের খাট কাঁধে নেবে, ঠিক তখনই বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ আসবে। তাদের আওয়াজে মনে হবে যেন পুরো এলকাটা দুঃখের সাগরে ভাসছে। জানাযা শেষ হওয়ার পর আমাকে নিয়ে যাবে ঐ আঁধার কবর ঘরে, সেথায় কেউ নাই-শুধু আমিই থাকব পরে। দুনিয়ায় কত আপনজন ছিল আমার পাশে, তারা কেউ থাকল না আমার সাথে বসে। এটাই দুনিয়া ভাই, এটাই মোদের জীবন-দুনিয়াটা বড়ই ধোঁকাবাজির, কেউ নয় কারো আপন। জীবনের মোড় ঘুরে গিয়ে যেদিন বন্ধ হবে শ্বাস, নাম ধরে সেদিন ডাকবে না কেউ ডাকবে মরা লাশ।
